২০৩০ সাল

বৈশ্বিক গ্যাস তরলীকরণ সক্ষমতা পৌঁছতে পারে ৭০ কোটি টনে

বৈশ্বিক গ্যাস তরলীকরণ সক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ৭০ কোটি টনে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও অক্ষয় কুমার সিং।

বৈশ্বিক গ্যাস তরলীকরণ সক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ৭০ কোটি টনে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও অক্ষয় কুমার সিং। সম্প্রতি আবুধাবিতে এডিপেক ২০২৪ ইভেন্টে তিনি বলেন, ‘‌জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় ভারতসহ বেশকিছু দেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এতে সৃষ্ট বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিশ্বজুড়ে তরলীকরণ সক্ষমতা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়বে।’ খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।

ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়নের ২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড এলএনজি প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈশ্বিক তরলীকরণ সক্ষমতা ছিল বার্ষিক প্রায় ৪৮ কোটি ৩১ লাখ টন।

অক্ষয় কুমার সিং বলেন, ‘‌ভারতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যয়ের সামর্থ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভোক্তারা আশা করেন না কয়লা বা নবায়নযোগ্য অন্যান্য জ্বালানির চেয়ে এলএনজি সস্তা হবে। তবে এটি ডিজেল-পেট্রলের মতো তরল জ্বালানির তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতে বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ তরল জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ভারতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরতা রয়েছে, যা ডিজেল, পেট্রলের মতো তরল জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার হয়। এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এলএনজি হিসেবে উৎপাদন করা হয়। এছাড়া তরল জ্বালানির তুলনায় এলএনজি অধিক ব্যয় সাশ্রয়ী।’

পেট্রোনেট প্রধান বলেন, ‘‌গ্যাস উৎপাদনের ব্যয় খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। তাছাড়া এর পর্যাপ্ত মজুদও আছে। তবে বাজারের অস্থিরতার কারণে অনেক সময় এর দাম বাড়তে থাকে। অনিশ্চয়তা এড়াতে চাওয়া ভোক্তাদের জন্য এটি উদ্বেগের।’

তিনি জানান, চার বছর আগে যখন দাম কম ছিল, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করছিলেন। তবে কভিড-১৯ মহামারীর সময়ে চাহিদা কমে প্রায় দুই কোটি টনে নেমে আসে। তখন কিছু ভোক্তা বিকল্প সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। বিকল্প হিসেবে তারা তরল জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘‌পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ভারতের ২০৭০ সালের মধ্যে নিট জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অপরিহার্য। এটি সব জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সহায়ক।’

ভারত এলএনজির ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। সিং বলেন, ‘‌দাম কম থাকা অবস্থায় কীভাবে এলএনজির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ গিগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও করেছে।

কপ ২৮ সম্মেলনে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের তীব্রতা ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেশটি বনভূমি ও গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত গ্যাস অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর আওতায় গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন, সংযোগ বৃদ্ধি ও এলএনজি আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের মতো প্রকল্প নির্মাণ করা হবে।

আরও